
চন্দনাইশ প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জাহেদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরকীয়ার সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
নিহত গৃহবধূর নাম মিনহাজ খাতুন (২৪)। তিনি দোহাজারী পৌরসভার হাছনদণ্ডী নাসির মাস্টার বাড়ি এলাকার খাইরুল বশরের ছেলে জাহেদুল ইসলামের স্ত্রী।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে। খবর পেয়ে পুলিশ ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে মিনহাজের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের ছোট বোন হাফছা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে মিনহাজ খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর ও দেড় বছর বয়সী দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
হাফছার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে জাহেদুল ইসলাম অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় প্রায় সময় মিনহাজকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার রাতে জাহেদুল ইসলাম ওই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় মিনহাজ তার ফোন নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরে শনিবার রাতে মিনহাজকে মারধর করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহেদুল ইসলাম ফোন করে মিনহাজের পরিবারকে জানান, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হাফছা ভিডিও কলে তার বোনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান।
নিহতের স্বজনরা ওই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ দেয়। একই সঙ্গে মিনহাজ বাথরুমে পড়ে মারা গেছেন বলে প্রচার করার কথাও বলা হয়। এমনকি একটি আপোষনামা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মিনহাজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং হাত, পা ও গলায় রশি বা বাঁধনের মতো কালো দাগ দেখতে পায় বলে নিহতের পরিবারের দাবি।
নিহতের পিতা আবুল ফজল জানান, তিনি এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার পর নিহতের শাশুড়ি নাসিমা আক্তারসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, রবিবার সন্ধ্যায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জাহেদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংলাপ নিউজের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
