লামার ছেলে প্রেমিক রাজু’র ডাকে কক্সবাজার গিয়ে রাতযাপন করে কুমিল্লার তাজমিন

admin
By admin
3 Min Read

মোহাম্মদ আবুল হাশেম
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়, মাত্র ১৭ দিনের প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে এসে প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীর সঙ্গে একটি আবাসিক হোটেলে রাতযাপন করেন তাজমিন। পরদিন বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজু চৌধুরীর বাড়ি পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ছনখোলা গ্রামে। তিনি মনির আহমদের ছেলে। পেশায় আবাসিক হোটেলকর্মী রাজু গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত রয়েছেন।

হোটেলের নিবন্ধন খাতায় অন্য নাম
হোটেল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজু ও তাজমিন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। সেখানে তাঁকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল।
পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোটেলটির এক কর্মচারী জানান, এক রাত অবস্থানের পর রাজু তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তুলে দেন।

ফেসবুক থেকে প্রেম, কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য টাকা পাঠানোর তথ্য
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফেসবুকের মাধ্যমে রাজু ও তাজমিনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কটি ছিল মাত্র ১৭ দিনের।
জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের ঝগড়া হয়। এরপর তিনি বাড়ি ছেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান। সেখান থেকেই রাজুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে রাজু তাঁকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান বলে সূত্রের দাবি।
বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক পরিণতি
তথ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে বাস থেকে নামার পর বাড়ি যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুমন তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অসমর্থিত সূত্রের দাবি, কুমিল্লায় ফেরার পথে এবং অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। এমনকি অটোরিকশাচালকের বিস্তারিত তথ্যও তিনি রাজুকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে সূত্রটি জানায়।
পরদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন রাজু।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ