আয়কর রিটার্ন না দিলেই মহাবিপদ, আটকে যেতে পারে বেতনও

admin
By admin
3 Min Read

আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। দেশে বিপুল-সংখ্যক ই-টিআইএনধারী থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় কঠোর হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যাদের ই-টিআইএন রয়েছে কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি, তাদের কাছে ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে। এরপরও রিটার্ন জমা না দিলে কর পরিদর্শক সরাসরি বাসায় গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর গত ৩১ মার্চ শেষ হয় চলতি অর্থবছরের রিটার্ন দেওয়ার সময়। বর্তমানে এক কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী আছেন দেশে। এর মধ্যে চলতি বছর আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা। এই হিসাবে ৮০ লাখের বেশি টিআইএনধারী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুল-সংখ্যক মানুষ রিটার্ন দেননি। যে কারণে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আইন অনুযায়ী, আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অর্থাৎ, ই-টিআইএন থাকার পরও আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে পড়তে হতে পারে বড় ধরনের বিপদে। আয়কর আইন অনুসারে, এক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে শর্ত সাপেক্ষে জরিমানা আরোপ করা যাবে। আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হয়, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়।  আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। যেমন বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর অবকাশ ইত্যাদি। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, আপনি প্রতি বছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।  রিসেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। শুধু বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যে কোনো রাষ্ট্রীয় পরিসেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের। সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেতন-ভাতার একটি নির্ধারিত সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন-ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন-ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ