
জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উত্তাপ বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সময়োপযোগী ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি খাত একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অসময়ে ভারী বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এবং তীব্র খরা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং আবাসন প্রকল্পের কারণে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ হারে কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি বীজ, সার, ডিজেল এবং কীটনাশকের বিশ্বব্যাপী মূল্যের অস্থিরতা কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, আর শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় সেচের তীব্র সংকট বোরো ধানসহ অন্যান্য শীতকালীন ফসলের উৎপাদনকে ব্যাহত করছে।
দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু খাদ্যাভাবই দেখা দেবে না, বরং বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে চরম মূল্যস্ফীতি ঘটবে। খাদ্যের ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে চাল-গম আমদানি করতে হলে তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও চরম হুমকির মুখে ফেলবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে হলে এখনই টেকসই ও প্রতিকূলতা সহনশীল কৃষিব্যবস্থার দিকে জোর দিতে হবে।
এই সংকট উত্তরণে খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন, আইন প্রণয়ন করে উর্বর কৃষি জমি অকৃষি খাতে ব্যবহার বন্ধ করা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষকদের নিয়মিত প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি; তাই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও সঠিক নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এই বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
