
বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক দাবি, পরীক্ষা বিতর্ক এবং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এখন গণবিক্ষোভে উত্তাল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া আশ্বস্ত বার্তা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার সত্ত্বেও বিক্ষোভ প্রশমিত করা যায়নি, বরং রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচি আরও জোরদার রূপ নিয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাজার হাজার আন্দোলনকারী জমায়েত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লির ১৬টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ—সাধারণ মানুষ ও তরুণদের ন্যায্য দাবির প্রতি কেন্দ্র সরকার দীর্ঘদিন ধরে উদাসীন। এ আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের পার্লামেন্টেও, যেখানে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা কালো পোশাক পরিধান করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন। চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজপথ ছাড়েনি আন্দোলনকারীরা, কারণ তাদের স্পষ্ট বার্তা—শুধু মুখের কথায় কাজের কাজ হবে না এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
