বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

admin
By admin
3 Min Read

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সুরুজ মিয়া নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্যানেল চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুরুজ মিয়া শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছেন, তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাননি। আরুয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য সোনিয়া আক্তার পলি অভিযোগ করেন, তার দুটি রাস্তার কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ইউনিয়নের যেকোনো উন্নয়ন কাজে তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়া হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ১২টি টয়লেট জোরপূর্বক নিয়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিতরণের অভিযোগও করেন তিনি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহেল রানা জানান, তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর আশ্বাস দিয়ে দুই লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং অগ্রিম এক লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে উল্টো হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি টয়লেট পাইয়ে দিতে ৩ হাজার টাকা, ভিজিএফ কার্ডের জন্য ২ হাজার টাকা এবং মামলা থেকে অব্যাহতির নামে ২৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। হালিমা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী জানান, কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত সুবিধা দেওয়া হয়নি এবং পরবর্তীতে তাকে সংগঠন থেকে মৌখিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউসুফ অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মামলা থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে ২৯ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো ফল হয়নি, বরং টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এছাড়া মন্দির উন্নয়ন কাজেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিনোদ হালদার জানান, উন্নয়ন কাজ চলাকালে সুরুজ মিয়া নিজেকে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দাবি করে কাজ বন্ধের হুমকি দেন। নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। আরুয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. রাশেদ অভিযোগ করেন, মিথ্যা অভিযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়। আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নাসিরুদ্দিন বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের দায় পুরো দলের ওপর পড়ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুরুজ মিয়া দাবি করেন, তিনি এসিল্যান্ডের নির্দেশেই কাজ করছেন। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাইম বলেন, তিনি ১ ফেব্রুয়ারি ওই ইউনিয়নের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে আর কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে সরকারি দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। সুরুজ মিয়ার দাবি তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ