টিসিবির চাল ও ফ্যামিলি কার্ডসহ জনতার হাতে জামায়াত নেতা আটক

admin
By admin
3 Min Read

পটুয়াখালীর বাউফলে ২৪টি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও প্রায় ২৪০ কেজি টিসিবির চাল ঘরে তোলার সময় জামায়াতে ইসলামীর এক ইউনিয়ন নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে উদ্ধার হওয়া চাল ও কার্ড স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়। সোমবার (২৫ মে) রাত ১০টায় উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতা সাকিল শিকদার কেশবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সম্পাদক। স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ, হাসান বয়াতি, জাহাঙ্গীর বয়াতি, দোকানদার মামুন জানান, মমিনপুর বাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে কয়েকটি বস্তাভর্তি চাল তোলার সময় তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গিয়ে প্রায় ২৪০ কেজি চাল এবং ২৪ জন টিসিবি সুবিধাভোগীর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড উদ্ধার করেন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি গ্রাম পুলিশকে জানানো হয়। পরে উদ্ধার করা চাল ও কার্ড ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ সদস্য হাসানের জিম্মায় দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য সাধারণত দিনের বেলায় বিতরণ করা হয়। সেখানে রাতে কীভাবে এসব চাল একত্রে আনা হলো এবং কেন তা ওই জামায়াত নেতা নিজের বাসায় রাখছিলেন? তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিল শিকদার বলেন, এটি স্থানীয় বিএনপির একটি সাজানো নাটক। তার দাবি, ছোট ভাই রাজিব দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির সুবিধাভোগীদের পণ্য কিনে দিতে সহায়তা করে আসছেন। বিনিময়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে পারিশ্রমিক পান তিনি।  তিনি আরও বলেন, সোমবার ২৪ জনের পণ্য আমার ভাই সংগ্রহ করেছে। প্রথম চালানের চাল ঘরে তোলার সময় বিএনপির কিছু কর্মী এসে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে। রাতে চাল বাসায় রাখার বিষয়ে সাকিল শিকদার বলেন, দিনের বেলায় সুবিধাভোগীরা এসে তাদের পণ্য নিয়ে যাবেন। নিরাপত্তার জন্য রাতের বেলায় সাময়িকভাবে আমার বাসায় রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস বয়াতীর অনুসারীরা জামায়াতের এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি আবু দাউদ দৈনিক কালবেলাকে বলেন, কয়েক দিন আগে গাছ কাটা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, হয়তো সেই আক্রোশ থেকেই বিএনপির লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ