পাবনায় প্রস্তুত চাহিদার দ্বিগুণ কোরবানির পশু

admin
By admin
4 Min Read
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গবাদিপশু পালনকারীরা। পশুর খাবার, পরিচর্যা ও গোসল করানো নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত থাকলেও বাড়তি উৎপাদন খরচ ও বাজার অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় পশু পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কাও তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কোরবানির পশু প্রস্তুত থাকলেও লাভ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। তাদের দাবি, প্রতি মণ গরুর দাম কমপক্ষে ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা না হলে অধিকাংশ খামারি লোকসানের মুখে পড়বেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পাবনায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। এর বিপরীতে জেলার ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু এবং ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ছাগল। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। খামার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি ও সংকর—দুই ধরনের গরুই প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দানাদার খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বেড়া উপজেলার চাকলা গ্রামের খামারি লালচাঁদ মোল্লা জানান, গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে। গমের ভূসি, মসুর, অ্যাংকর, ধানের কুঁড়াসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেড়েছে কয়েকশ টাকা। শুকনো খড়ের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি গরুর প্রতি মণে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক দিয়ে খামার পরিচালনা করলে ব্যয় আরও বেড়ে যায়। তাই দেশি গরুর ক্ষেত্রে প্রতি মণে অন্তত ৩৩ থেকে ৩৪ হাজার টাকা এবং সংকর জাতের গরুর জন্য ৩২ হাজার টাকা দাম না পেলে লাভ করা কঠিন হবে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহেই বড় গরুর দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর মধ্যে বিদেশি গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার হামিদ ক্যাটল ফার্মের পরিচালক সিফাত রহমান। তিনি জানান, তার খামারে এবার ১৮টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। নিজস্ব ফিড মিল থাকায় কিছুটা খরচ কমলেও সার্বিক ব্যয় সামাল দিয়ে লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবার এখনো ক্রেতা ও পাইকারদের তেমন আনাগোনা নেই। অনেকেই খামারে এলেও দাম বলছেন না, যা বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। খামারিরা জানান, বড় গরুর ক্ষেত্রে লোকসানের ঝুঁকি আরও বেশি। গত বছর ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কেনা একটি গরুকে এক বছর লালন-পালন করে ২০ মণে উন্নীত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায়নি। এদিকে খাদ্যের বাজার নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বড় বাজারের পাইকারি খাদ্য বিক্রেতা এনামুল হক। তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ায় গমের ভূসির দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী হাটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় প্রতি মণ গরুর দাম ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা হলে খামারিরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি গোখাদ্যের দাম আরও কমলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু পালনে খামারিরা বেশি উৎসাহ পাবেন।
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ