‘ভোট চুরি করে মোদী কোথাও পালাতে পারবেন না’

admin
By admin
3 Min Read

ভারতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার তালিকা কারচুপি ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

রোববার রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দেওয়া ভাষণে ভারতের শীর্ষ বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী মোদী ও অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্টভাবে বলেন, ইন্ডিয়া জোট ভারতের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেবে না। ভোট চুরি করে আপনারা কোথাও পালাতে পারবেন না।


নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফেরানোই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রধান লক্ষ্য।

সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের মন্তব্যের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, তারা বলছে নরেন্দ্র মোদী নাকি কোথাও যাবেন না। আসল কথা হলো, ওনাকে কোথাও পালাতে দেয়া হবে না! সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পর আমরা আপনাদের কাছে আসব এবং আপনাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজনের (প্রায় ১৫ শতাংশ) ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে শাসকদল এনডিএ ও বিরোধী জোটের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, গত নির্বাচনটি ছিল পুরোপুরি অবৈধ। এ ধরনের কারচুপিকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।


ভাষণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দখল করে গুটিকয়েক শিল্পপতি- আম্বানি ও আদানিদের হাতে সুবিধা তুলে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকদের সামান্য ঋণ মওকুফ না করে জেলে পাঠানো হচ্ছে।

রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন যে, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ঘৃণা নেই। তবে বিজেপি-আরএসএস যে ঘৃণার রাজনীতি ছড়িয়ে দেশের ক্ষতি করছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাই বিরোধীদের প্রধান ধর্ম বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ