
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলোচিত দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলায় আসিফের বিরুদ্ধে বিশাল অংকের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে, যার একটি বড় অংশ জমা রয়েছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে (সুইস ব্যাংক)।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন বেনামি ব্যবসা ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দেশ থেকে পাচার করা হয়। এর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যেভাবে চলত অর্থপাচার:
ভুয়া এলসি ও প্রতিষ্ঠান: নামসর্বস্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে এবং ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করা হতো।
অফশোর কোম্পানি: পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ করপোরেট ট্যাক্স হেভেন বা অফশোর অ্যাকাউন্টগুলোতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সুইস ব্যাংকে গোপন হিসাব: দুদকের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাচার করা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সুইস ব্যাংকের বিভিন্ন গোপনীয় অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও পরবর্তী করণীয়:
দুদকের উচ্চপর্যায়ের একটি টিম এই অর্থপাচারের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত আসিফ ও তার সহযোগীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুইস ব্যাংক বা অন্যান্য বৈদেশিক ব্যাংক থেকে এই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট (MLAR) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।
দুদক জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া এ ধরণের অর্থপাচারকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং তদন্ত শেষে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

