
নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড়:
পঞ্চগড়ে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জের ধরে জেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড় ও শেরেবাংলা পার্ক এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত পথচারী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। দীর্ঘ ১ ঘণ্টার চেষ্টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে

