চাঁদপুরে বৈশাখে পান্তা-ইলিশ নয়, মেনুতে ভিন্ন আয়োজন

admin
By admin
2 Min Read

চাঁদপুরে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের বদলে ভিন্নধর্মী মেনু দেখা যাচ্ছে। বাঙালি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে নববর্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রচলন থাকলেও, ইলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছর ধরে এ ধারা বদলে গেছে। এখন ‘পান্তা-ইলিশ’ নামটি থাকলেও বাস্তবে পান্তার সঙ্গে পরিবেশন করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশীয় মাছ ও ভর্তা। কেউ কেউ আবার মাটির হাঁড়ি বা কলাপাতায় সাজিয়ে শখ করে এসব খাবার উপভোগ করছেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে এ বিষয়ে চাঁদপুরের বিভিন্ন বিশিষ্টজন তাদের মতামত জানান।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণে জেলার মানুষ সচেতন ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে পহেলা বৈশাখে পান্তার সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার প্রচলন এখন আর নেই। আগে প্রেসক্লাব থেকে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদ্‌যাপন শুরু হতো, বর্তমানে সেখানে অন্য মাছ দিয়ে মেনু সাজানো হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক জানান, মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীসহ আশপাশের এলাকায় ইলিশ কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইলিশ পরিবহন বা মজুদও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে কেউ বেআইনি কার্যক্রমে জড়ালে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে বড় আকারের ইলিশের দাম ছিল প্রতি কেজি ২,৫০০ থেকে ৩,২০০ টাকা। বর্তমানে ইলিশ না থাকায় মানুষ পান্তার সঙ্গে রুই, তেলাপিয়া, পুঁটি ইত্যাদি মাছ খাচ্ছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস দিন-রাত টাস্কফোর্স অভিযান চালাচ্ছে। নদী থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত কোথাও যাতে ইলিশ বিক্রি না হয়, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ কারণে পান্তা-ইলিশ নামটি প্রচলিত থাকলেও বাস্তবে চাঁদপুরে বৈশাখের আয়োজনে মানুষ বিকল্প পথই বেছে নিচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *