
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বর ও তাঁর বাবাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বরযাত্রীদের গাড়ি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক সেটি থামিয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় বর মো. হানিফ ও তাঁর বাবা হবি মিয়াসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। ধিতপুর বড়বাড়ি এলাকার মো. কাজল টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বরযাত্রীর গাড়ির কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। যানজট সরানোকে কেন্দ্র করে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের বিরোধ হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে তাঁদের পক্ষের ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বরপক্ষের হেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন যুবক গাড়ি আটকে মিষ্টি খাওয়ার নামে টাকা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় বরযাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বরসহ তাঁদের পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

