বিপণিবিতানে ক্রেতা কম, ফুটপাতেই বেশি ভিড়

admin
By admin
5 Min Read

কোরবানির ঈদ সামনে হলেও রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে এখনো জমে ওঠেনি প্রত্যাশিত ঈদবাজার। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, অলংকারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অধিকাংশ সময় অলস বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে বিক্রয়কর্মীদের। একই চিত্র পাইকারি বাজারেও। তবে ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত শুক্র ও শনিবার কিছুটা ভালো বিক্রি হলেও সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে বেচাকেনা আশানুরূপ হয়নি। ঈদকে ঘিরে বাড়তি বিনিয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা না হওয়ায় হতাশ তারা। তারপরও যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে, সেটিকেই ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাজধানীর গুলিস্তানের অন্যতম পাইকারি মার্কেট ঢাকা ট্রেড সেন্টারেও এবার ঈদের আমেজ অনেকটাই ফিকে। সাধারণত ঈদের এক মাস আগে থেকেই এখানে বাড়তি ব্যস্ততা দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, ঢাকার বাইরে থেকে অর্ডার কমে যাওয়ায় দুই বছর ধরেই বাণিজ্যে ভাটা চলছে। কমফোর্ট জোনের ব্যবসায়ী মো. দুলাল হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে ঋণ করে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছিলেন। ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার গেঞ্জি ও শার্ট বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার বিক্রিও হয়নি। আগে ভালো মৌসুমে দিনে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বিক্রি হলেও এবার ২০ হাজার টাকাও হচ্ছে না। তার মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ এখন পোশাকে আগের মতো খরচ করতে পারছে না। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বুসরা ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ডার পাওয়ার কথা থাকলেও এবার মে মাসের শেষ দিকে এসে সীমিত পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। কাপড়ের দাম বাড়ায় পণ্যের মূল্যও বেড়েছে, অন্যদিকে মানুষের কেনাকাটার সক্ষমতা কমেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় সব ধরনের পোশাকের দাম পিসপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গেঞ্জি ১৮০ থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং শিশুদের পোশাক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারেও একই অবস্থা। নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটগুলোতে তেমন ভিড় নেই। যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই পোশাক ও জুতার দোকানে সীমিত কেনাকাটা করছেন। শিলং ম্যাচিং সেন্টারের ব্যবসায়ী মো. হিরণ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। আগে এ সময়ে দিনে ৭০-৮০ হাজার টাকার বিক্রি হলেও এখন ২০ হাজার টাকাও হচ্ছে না। ব্যবসা এখন মূলত শুক্রবারনির্ভর হয়ে পড়েছে। শোয়াইব ফেব্রিক্সের ব্যবসায়ী মো. আজিম মাতবর বলেন, ঈদের আগে সাধারণত শার্ট-প্যান্ট তৈরির অর্ডারে ব্যস্ত সময় কাটানোর কথা থাকলেও এবার বাজার একেবারেই স্বাভাবিক সময়ের মতো চলছে। তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি সেখানে। নিউমার্কেট ওভারব্রিজের পাশে পোশাক বিক্রেতা মো. জহির হোসাইন জানান, শুক্রবার ২০ হাজার ও শনিবার ৮ হাজার টাকার বিক্রি হলেও পরে তা আবার কমে যায়। বর্তমানে দৈনিক ৫ হাজার টাকার বিক্রিও হচ্ছে না। টি-শার্ট বিক্রেতা মো. সামির মোহাম্মদ বলেন, এবার ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে জার্সির বাজার বেশি জমে উঠেছে। ফলে টি-শার্টের বিক্রি কমে গেছে। পাশের দোকানি মো. ইমাম হাসান জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে টি-শার্টের পাশাপাশি জার্সিও তুলেছেন, আর এখন জার্সির চাহিদাই বেশি। জুতার ব্যবসায়ী মো. সজিব কাজী বলেন, ঈদের বাজার এবার অনেকটাই মন্দা। তবে গত শুক্র ও শনিবার কিছুটা ভালো বিক্রি হয়েছে। অন্য দিনগুলোতে গড়ে ১২ থেকে ১৫ জোড়া জুতা বিক্রি হচ্ছে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় টুপি ও আতর বিক্রেতা মো. হাফিজ উদ দৌলা বলেন, ঈদে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে অনেকে আতর, টুপি, জায়নামাজ কিনে নেন। তবে এবার কম দামের পণ্যের প্রতিই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি থাকায় লাভ কমে গেছে। এদিকে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি আশা করছে, মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও এবারের ঈদে সারা দেশে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও ফ্যাশন খাতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের মোট ঈদ বাণিজ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ঢাকাকেন্দ্রিক। তাদের ধারণা, এবারের কোরবানির ঈদে রাজধানীতে পোশাক ও ফ্যাশন খাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য, মসলা, সুপারশপ ও রেস্টুরেন্ট খাতে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে। এছাড়া পরিবহন, কুরিয়ার, ই-কমার্স ও অন্যান্য সেবা খাতেও বড় অঙ্কের লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *