
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ আসামির বিরুদ্ধে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুরু হচ্ছে। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ার এটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আইনজীবীরা জানান, ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত কার্যতালিকা অনুযায়ী মামলার শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিজেদের মক্কেলদের পক্ষে আইনি বক্তব্য ও যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা যারা রয়েছেন
এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আরও ছয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সংগঠনের নেতা আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রয়েছেন। তারা হলেন:
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম
মোহাম্মদ আলী আরাফাত
শেখ ফজলে শামস পরশ
মাইনুল হোসেন খান নিখিল
সাদ্দাম হোসেন
ওয়ালি আসিফ ইনান
বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ যেভাবে সম্পন্ন হলো
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি ছিল বেশ ত্বরান্বিত। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের (চার্জ গঠন) মাধ্যমেই এই মামলার বিচারকার্য আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।
এরপর দীর্ঘ শুনানির ধারাবাহিকতায় বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে বিভিন্ন নথিপত্র ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্ব শেষে মামলাটি এখন যুক্তিতর্ক ও চূড়ান্ত রায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আজকের এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের জোরালো যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


