নীল ঝড়ে বিধ্বস্ত ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

admin
By admin
3 Min Read

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবির পরও পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে আরও তিনটি তেলের ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ইরান। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল চরম ঝুঁকির মুখেই থাকছে।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ওয়াশিংটনে এই যুদ্ধের রাজনৈতিক মাশুল নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন ও পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ বার্তায় স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধই মূল ভূমিকা পালন করেছে।


ভ্যান্সের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খোঁচা দিতে ছাড়েননি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইন্টারনেটে ভাষণের মতো কথা না বলে, ট্রাম্প যে একজন পরাজিত জুয়াড়ির মতো বারবার ভুল চাল চালছেন এবং আরও হামলার পরিকল্পনা করছেন, তা সরাসরি আপনার বসকেই গিয়ে বলুন না কেন?

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্পের চালু করা ‘অপারেশন এপি-ক ফিউরি’র পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে যে আগুন লেগেছিল, নির্বাচনের ফলাফলের পর ট্রাম্প পিছু হটতে পারেন—এমন ধারণায় বাজার কিছুটা শান্ত হলেও সংঘাত কমার কোনো বাস্তব লক্ষণ মিলছে না।

গত সপ্তাহের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ২০ ডলারের বেশি কমলেও বৃহস্পতিবার হরমুজে নতুন হামলার খবরে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেও একাধিক জাহাজে গোলা ও মাইন হামলার ঘটনা ঘটেছে।


যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও মূল সংকটগুলোর নিরসন এখনো হয়নি। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন সুপ্রিম লিডার আলী খামেনির পর দায়িত্ব নেওয়া আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে “আত্মসমর্পণের সামান্যতম প্রবণতাও” প্রদর্শন করা যাবে না।

হোয়াইট হাউসের ভেতরে ভ্যান্সের বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিকভাবে হারানোর আর কিছু না থাকায় ট্রাম্প ফের ইরানে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিতে পারেন। সব মিলিয়ে কাতার যুদ্ধবিরতির জোর চেষ্টা চালালেও হরমুজ প্রণালী ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখনো বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংলাপ