
টহরা
ন, আগস্ট ২০২৬
— তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির কষাঘাতে জর্জরিত ইরান। দেশটির মুদ্রা ইরানি রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চরম অবনতিশীল এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন আকাশছোঁয়া। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে।
সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাজারে এক কেজি গরু বা খাসির মাংসের দাম ছাড়িয়ে গেছে ২ কোটি ইরানি রিয়াল। এক সময় যে পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি পরিবার মাসভর ভালোমন্দ বাজার করতে পারত, বর্তমানে সেই পরিমাণ অর্থে মাত্র এক কেজি মাংস কেনাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকট কেন চরম আকার ধারণ করেছে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটের কারণে ইরানি রিয়াল তার মূল্যের প্রায় পুরোটাই হারিয়ে ফেলেছে। বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায়।
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, যেমন—মাংস, চাল, ডাল এবং শাকসবজির দাম প্রতিদিন বাড়ছে।
হ্রাসপ্রাপ্ত ক্রয়ক্ষমতা: আয় ও বেতনের তুলনায় মুদ্রাস্ফীতির হার বহুগুণ বেশি হওয়ায় সাধারণ চাকুরিজীবী ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের পক্ষে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমদানি সংকট: ডলারের ঘাটতির কারণে অনেক জরুরি পণ্যের আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জনজীবনে চরম হতাশা
বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, পকেটে লাখ লাখ রিয়াল নিয়েও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বাড়ি ফেরানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে মাংস বা আমিজাতীয় খাবার এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য প্রায় বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
অর্থনৈতিক এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

