
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
দেশে দিন দিন বাড়ছে চায়ের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। নতুন নতুন এলাকায় চা বাগান গড়ে ওঠার পাশাপাশি চা শিল্পে বাড়ছে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও লাভের পরিমাণ। তবে চা শিল্পের এই অগ্রগতির সুফল থেকে এখনো অনেকটাই বঞ্চিত রয়েছেন বাগানের শ্রমিকরা। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই চা বাগানে ছুটে যান শ্রমিকরা। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চা পাতা সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন তারা। তাদের এই শ্রমের ওপর নির্ভর করেই চা শিল্পের উৎপাদন ও ব্যবসার চাকা সচল থাকলেও জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে অনেক শ্রমিক পরিবারকে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের আয় ও সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্তভাবে বাড়েনি। সীমিত আয়ের কারণে খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
চা শ্রমিকদের অনেকেই জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবার চা বাগানের সঙ্গে যুক্ত। বাবা-মায়ের পর সন্তানরাও একই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু সময় বদলালেও বদলায়নি তাদের জীবনের বাস্তবতা। চা শিল্পের প্রসার ও উৎপাদন বাড়লেও শ্রমিক পরিবারের বড় একটি অংশ এখনো সীমিত আয় ও নানা সংকটের মধ্যেই জীবনযাপন করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও চা রপ্তানি করা হচ্ছে। এই শিল্পের উৎপাদন ও সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা শ্রমিকদের হলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু উৎপাদন ও মুনাফা বাড়ালেই হবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ বাসস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
চা বাগানের সবুজে যখন বাড়ছে উৎপাদন ও লাভের হিসাব, তখন সেই সবুজের আড়ালেই রয়ে গেছে হাজারো শ্রমিক পরিবারের অভাব, বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার গল্প। চা শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন এই শিল্পের মূল কারিগর শ্রমিকদের জীবনেও আসবে পরিবর্তনের সবুজ ছোঁয়া।

