
নিজস্ব প্রতিবেদক,
১৫/০৮/২০২৬
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আতানারায়ণপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে একটি পরিবার. দীর্ঘ ছয় বছরে মরণব্যাধি ক্যানসারে এই পরিবারের চারজন সদস্য মারা গেছেন। বর্তমানে আরও দুজন সদস্য চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। পরিবারের এমন বিপর্যয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে দুই অবুঝ শিশুর।
মর্মান্তিক ক্যানসারের থাবা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ক্যানসারের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘ লড়াইয়ের শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের দিকে। ওই সময় পরিবারের মেজ ভাই সাদরুল ইসলাম প্রায় ৪৬ বছর বয়সে লিভার ক্যানসারে মারা যান। এরপর ২০২২ সালে ৮০ বছর বয়সে তাদের বাবা আবদুল হামিদেরও লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ধারাবাহিক এই শোকের মাঝে ২০২৪ সালে লিভার ক্যানসারে মারা যান সেজ ভাই মামুন অর রশিদ (৪০)। এর মাত্র এক বছর দুই মাস আগে ক্যানসারেই মারা যান এসারুল ইসলাম (৪০), যিনি মোহনপুর মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
আক্রান্ত আরও দুজন, চরম আর্থিক সংকট
প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে পরিবারটি যখন দিশেহারা, তখন নতুন করে ক্যানসার আঘাত হেনেছে আরও দুই সদস্যের ওপর। এসারুল ইসলামের মৃত্যুর মাত্র এক মাস পর তার স্ত্রী মোসা. ঝরনার ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত। নিয়মিত কেমোথেরাপির পাশাপাশি স্ট্রোক করায় তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইসরাতের বড় চাচা শফিকুল ইসলামও চতুর্থ পর্যায়ের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত এসারুলের চিকিৎসায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এবং বর্তমান সদস্যদের ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে পরিবারটির আর্থিক অবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মোবাইল ফোন পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে তাদের।
অনিশ্চয়তায় দুই শিশু
এই ক্যানসারপীড়িত পরিবারে রয়েছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ও তার পাঁচ বছর বয়সী ছোট ভাই জুনায়েদ ইসলাম। বাবার চিকিৎসার জন্য অতীতে মা-বাবার সঙ্গে ভারতে যাওয়ার সময় ইসরাতের আঁকা ছবিগুলোই এখন বাবার একমাত্র স্মৃতি। মা ও চাচা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ায় করায় এবং পরিবারের বড়রা একে একে চলে যাওয়ায় এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
স্থানীয় সমাজসেবা বিভাগ ও শিশু সুরক্ষা কর্মীরা পরিবারটির নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের মতো
দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা গরিব পরিবারের পক্ষে চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এই দুর্গত পরিবারের দুই শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকারি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সংলাপ নিউজ চট্টগ্রাম।

