
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম ও জনবহুল একটি রুট হলো কদমতলী থেকে নিউ মার্কেট মুখী সড়ক, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে মুসলিম হল থেকে সিনেমা প্যালেস মোড় পর্যন্ত এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পথচারীদের চলাচলের জন্য তৈরি ফুটপাতগুলো এখন পুরোপুরি বেদখল হয়ে গেছে। ফুটপাত ছাপিয়ে সড়কের একটি অংশ জুড়েও চলছে ফার্নিচারের রমরমা ব্যবসা। এর ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কের ওপর দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত ডেকে আনছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
দখলে সংকুচিত ফুটপাত, পথচারীদের চলাচলের উপায় নেই
সরেজমিনে মুসলিম হল থেকে সিনেমা প্যালেস মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের পুরো অংশজুড়ে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে শোকেস, খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল এবং সোফাসেটসহ নানা ধরনের ভারী ও আধুনিক আসবাবপত্র। শুধু তা-ই নয়, ফুটপাতের ওপরই চলছে কাঠ কাটা, বার্নিশ করা ও মিস্ত্রিদের কাজ। পথচারীদের হাঁটার জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা থাকার কথা, তার সিকিভাগও ফাঁকা নেই। বাধ্য হয়ে শিশু, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদের নামতে হচ্ছে ব্যস্ত সড়কে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো জো নেই। কাঠ এবং ফার্নিচারের গুঁড়ো বাতাসে উড়ে চোখে-মুখে পড়ে, আর হাঁটার সময় মালপত্র সামলে মূল সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত গাড়িচাপা পড়ার ভয় কাজ করে।”
যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি চরমে
মুসলিম হল ও সিনেমা প্যালেস এলাকাটি সবসময়ই বেশ যানজটপূর্ণ। এই অংশে অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফুটপাত দখল করে রাস্তার ওপর ফার্নিচার প্রদর্শন ও বিক্রির কারণে এমনিতেই এই সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে গেছে। তার ওপর পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটায় যানবাহনের গতি যেমন শ্লথ হয়ে পড়ে, তেমনি সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় এবং স্কুল-কলেজ শুরুর ও ছুটির মুহূর্তে এই চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখানে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে ফুটপাত উচ্ছেদ ও অবৈধ দখলমুক্ত করার ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন উদ্যোগ বা মাইকিংয়ের কথা শোনা গেলেও, এই এলাকার চিত্র দেখে মনে হয় দেখার কেউ নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একশ্রেণির প্রভাবশালী অসাধু চক্রের ছত্রছায়ার কারণে বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও এই অংশটি বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। কিংবা কিছু সময়ের জন্য উচ্ছেদ করা হলেও পরক্ষণেই আবার আগের মতো ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।
নাগরিকদের ক্ষোভ ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ফুটপাত দখল করে কোনোভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না। এটি সরাসরি জননিরাপত্তার লঙ্ঘন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), জেলা প্রশাসন এবং ট্রাফিক পুলিশকে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মুসলিম হল থেকে সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত ফুটপাতগুলো অবৈধ ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে হবে। একই সাথে যারা বারবার এই নিয়ম অমান্য করে ফুটপাত দখল করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
i

