
লামায় নিজের নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগ দাদার বিরুদ্ধে।

মোহাম্মদ আবুল হাশেম,
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক বোবা প্রতিবন্ধী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দাদা জয়নাল আবেদীন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি উপজেলার লামা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কুড়ালিয়ার টেক এলাকার বাসিন্দা। সম্পর্কে তিনি কিশোরির আপন দাদা হন।
জানা যায়, ঘটনার পর বিষয়টা ধামাচাপা দিতে সামাজিকভাবে একাধিক বৈঠক হয় এবং ভিকটিমের পরিবারকে অভিযুক্ত পরিবার কর্তৃক ঘরবাড়ী ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভিকটিম বোবা প্রতিবন্ধী কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটলেও সামাজিকভাবে সালিশের আশ্বাস দিয়ে আজ পর্যন্ত আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে দেওয়া হয়নি।
ভিকটিমের মা-বাবা জানায়, ঘটনার দিন আমরা নিজের চায়ের দোকানে ছিলাম। আমার বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরী এবং ছোট মেয়ে তখন ঘরে ছিলো। ছোট মেয়ে কল থেকে পানি আনতে একটু দূরে গেলে আমার বাবা (অর্থাৎ ভিকটিম কিশোরীর দাদা) আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে পাশে ছোট ভাইয়ের খালি ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমার ছোট মেয়ে দূর থেকে দেখে বিষয়টি উপলদ্ধি করে দৌড়ে এসে দরজা খোলার জন্য ডাক দেয়, পরে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পার্শ্ববর্তী আমার ভাগনি আনিকা আক্তারকে ডেকে উভয়জন অন্য দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকলে দাদাকে জামা কাপড়হীন এলোমেলো অবস্থাই দেখে চিল্লাপাল্লা করে ভিকটিম প্রতিবন্ধী বোনকে উদ্ধার করে। কিন্তু দাদা ঘটনার কথা কাউকে বলে দিলে ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তী ভিকটিম প্রতিবন্ধী কিশোরীকে নিয়ে তারা দোকানে এসে আমাদেরকে বিষয়টা জানায় এবং প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েও কান্নাকাটি করে ইশারায় বুঝিয়ে বলে। পরে আমরা এলাকার সর্দার মহসিনকে তাৎক্ষণিক অবগত করি এবং তিনি সামাজিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দিলও বাদী একাধিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকে।
অবশেষ চারদিন পূর্বে আমাদের দোকানে সামাজিক সালিশে বিবাদী সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আমার ভিকটিম প্রতিবন্ধী মেয়েকে অভিযুক্ত দাদার নামীয় ২০ শতক জামি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিবাদী ১০ শতক যায়গা লিখে দেওয়ার সম্মতি দেয় এবং আমরা আত্মসম্মান বিবেচনায় গোপনীয় মীমাংসা মেনে নিলাম।
এদিকে সামাজিক সালিশের পর অভিযুক্ত বিবাদী সামাজিক সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি ছাড়ার হুমকি সহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে ভিকটিম পরিবারের একমাত্র উপার্জন সম্বল দোকানটাও তালা দিয়ে দেয় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। এতে ভিকটিমের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে আইনি সহায়তা কামনা করে লামা থানা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভিকটিমের বাবা মো. মালু মিয়া।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকার সরদার মহসিন বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা হয়নি। এটা তাদের পারিবারিক ঝামেলা। ১০ শতক যায়গা লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান কামাল বলেন, ভিকটিমের পরিবার লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
