

জাহেদুল ইসলাম শ্রাবণ:
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোবটিক সার্জারির মতো যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন দেশের চিকিৎসকরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অর্জন নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গর্বের। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের খবর গণমাধ্যমে তুলে ধরতে দেখা গেল তুলনামূলকভাবে খুব কম আগ্রহ।
সম্প্রতি অটোরিকশা চালকদের বন্ধের বিরুদ্ধে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাইক্রোফোন ও বুমে ভরে যায় পুরো আয়োজনস্থল। কিন্তু একই সময়ে রোবটিক সার্জারির মতো বড় অর্জনের পর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায় মাত্র একটি মাইক্রোফোন।
একটি ছবিই যেন আমাদের গণমাধ্যমের অগ্রাধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, আন্দোলন কিংবা বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বড় অর্জনগুলোও মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ এসব সাফল্য শুধু একজন চিকিৎসক বা একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়—এটি পুরো দেশের অর্জন।
মেধাবী চিকিৎসক, গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাজ যথাযথভাবে তুলে ধরা হলে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে। তৈরি হবে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ।
প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা যদি মেধা ও মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নই না করি, তাহলে তারা কেন এই দেশে থেকে কাজ করবেন?
মেধাবীদের ধরে রাখতে হলে শুধু সুযোগ নয়, প্রয়োজন তাদের কাজের স্বীকৃতি, সম্মান এবং গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব।
একটি ছবিই তাই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—আমরা কি সত্যিই মেধাকে যথাযথ মূল্যায়ন করছি?

