
গলার নিচে প্রজাপতির মতো দেখতে ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের হার্ট রেট, রক্তচাপ, তাপমাত্রা ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে দেখা দিতে পারে থাইরয়েড ক্যানসার।
সমস্যা হলো, এই রোগের লক্ষণগুলো অনেক সময় এতটাই সাধারণ যে মানুষ সহজে তা বুঝতে পারেন না। মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছরও শরীরে রোগটি নীরবে বিস্তার লাভ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ অ্যাসিডিটি, ভাইরাল সংক্রমণ বা সাধারণ গলার সমস্যার সঙ্গে মিশে যায়। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং চিকিৎসাও পিছিয়ে যায়। থাইরয়েড ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. ন্যান্সি পেরিয়ের জানান, সচেতনতা থাকলে এ রোগ দ্রুত ধরা পড়ে এবং সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
দীর্ঘদিন ধরে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
১) গলার সামনে গাঁট বা ফোলা
গলার সামনে অস্বাভাবিক কোনো গাঁট বা ফোলাভাব দেখা গেলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। এটি ব্যথাহীন হতে পারে, তবে সময়ের সঙ্গে বড় হলে সতর্ক হতে হবে।
২) গলা বা কানে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা
গলায় চাপ বা অস্বস্তি থেকে শুরু করে কানের দিকে টান অনুভূত হওয়া—এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা সতর্ক সংকেত হতে পারে।
৩) কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া
স্বরযন্ত্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে টিউমার হলে কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত হতে পারে। টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্বরভঙ্গ থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
৪) গিলতে বা শ্বাস নিতে অসুবিধা
খাবার গিলতে সমস্যা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি বা শ্বাসকষ্ট—এসব লক্ষণ টিউমারের চাপের কারণে হতে পারে।
৫) দীর্ঘদিনের শুকনো কাশি
কোনো সর্দি বা অ্যালার্জি ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি থাকলেও সতর্ক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে থাইরয়েড ক্যানসার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব এবং ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
