
চট্টগ্রামে,গত ৩০ জুলাই: ঐতিহ্যবাহী মদিনা ইসলামি মিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রহ.)-এর জীবনাদর্শ ও অবদান তুলে ধরতে “আশরাফী কনফারেন্স” অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এ কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
মদিনা ইসলামী মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং সিলসিলায়ে আলিয়া আশরাফিয়ার খলীফা মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন নির্বাহী মহাসচিব অ্যাডভোকেট মীর মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম সেলিম এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন খোকন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মানবিক সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার মো. জাবেদ আবছার চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ নবী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিআইপি শেখ নবী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন শাহসুফী সাগীর শাহ আল আমিরী আলমাইজভান্ডারী আল চিশতি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ শাহজাদা মরমীকবি সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মাওলানা সৈয়দ জুন-নুরাই, মাওলানা নুরুল আবছার নুরী, মাওলানা মঈন উদ্দীন রেজভী ও মাওলানা সফিকুল ইসলাম আলকাদেরী।
বক্তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে যুগে যুগে আউলিয়া-কিরাম ইসলাম, মানবতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির বাণী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, মাহবুবে ইয়াজদানী মখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রহ.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর আদর্শের এক উজ্জ্বল অনুসারী। তিনি পার্থিব ক্ষমতা ও ঐশ্বর্য ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেন এবং পরবর্তীতে হিন্দুস্তানে ইসলাম প্রচার, মানবকল্যাণ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কনফারেন্সে আরও বক্তব্য দেন ব্যাংকার সিরাজ উদ-দৌলা চৌধুরী, পীরজাদা মুহাম্মদ হাসান, আলহাজ মান্নান খান আশরাফী, মাওলানা সৈয়দ জুলকারনাইন, ইতিহাসবেত্তা সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দীন, মাওলানা নাছির উদ্দীন আল কাদেরী, মাওলানা ফোরকান আলকাদেরী, জি এম মামুনুর রশিদ এবং লেখক হানিফ মান্নান কাদেরী।
বক্তারা সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা, সহনশীলতা এবং ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ, আউলিয়া-কিরামের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


