
সদ্য ঘোষিত জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের সংগঠক দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। একই দিনে তিনি দলীয় আহ্বায়ক বরাবর লিখিতভাবে দলীয় সব পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় ছিল। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং একই বছরের ১৬ মে জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে যুক্ত হন। তিনি আরও বলেন, দলের আদর্শ ও লক্ষ্যকে সম্মান জানিয়ে তিনি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দলের মূল প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এই দলের সঙ্গে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান। ফেসবুক পোস্টে প্রীতি আরও লেখেন, তিনি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে নির্বাচনের আগেই দল থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সম্প্রতি জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং জানান, ওই কমিটির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উল্লেখ্য, ১৮ এপ্রিল এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন এবং সদস্য সচিব হিসেবে মাহমুদা আলম মিতুর নাম ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পরপরই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান প্রীতি। বিষয়টি নিয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, তিনি আগে থেকেই দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং আগেই পদত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
