
- চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল রোববার চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর উপলক্ষে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি পৌঁছাবেন। পরে সড়কপথে হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি হেলিপ্যাড ও সংলগ্ন সড়কের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে জেলা প্রশাসক ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির খোঁজ নেন।
এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান, খাদ্যসামগ্রী ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বাঁশখালী ও হাটহাজারীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নবনির্মিত ঘরসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা হস্তান্তর করা হবে।
সফরসূচির অংশ হিসেবে হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোও পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করবেন বলে জানা গেছে।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু পরিদর্শন করে প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে। সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মাঠে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফর সফল ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


