
- আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতদের স্মরণে চট্টগ্রামে বিএনপির দিনব্যাপী কর্মসূচি
চট্টগ্রামে ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিলের রক্তাক্ত ঘটনায় নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে আয়োজিত মহাসমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলসহ নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রদল নেতা শহীদ আবদুল কাইয়ুম, যুবনেতা শহীদ আজাদ বলী খান, শিক্ষিকা জাহানারা বেগম এবং শ্রমিকনেতা আবদুর রহমানসহ আরও অনেকে।
শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ আসর আবু ছৈয়দ দোভাষ জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে এক স্মরণসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাহেদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মাটিতে সংঘটিত ওই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছিল, তা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না এবং তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও শওকত আজম খাজা, সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হালিম, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকতার খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা ৯ এপ্রিলের ঘটনাকে স্মরণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
